চাঁদা দাবির বিরোধে তরুণ রাকিব হত্যা: মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইফুল গ্রেপ্তার, পলাতক অন্যদের খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
চাঁদা দাবির বিরোধে তরুণ রাকিব হত্যা: মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইফুল গ্রেপ্তার, পলাতক অন্যদের খুঁজছে পুলিশ

মো: মিজানুর রহমান সুমন, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের তরুণ জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম (২৬)কে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। এর আগে নিহত রাকিবের মা যোবেদা খাতুন বাদী হয়ে সোমবার (১ জুন) বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাকিবের চাচার বাড়িতে একটি পাকা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। এ সময় অভিযুক্তরা ওই নির্মাণকাজে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত শনিবার (৩০ মে) রাত প্রায় ৯টার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাকিব ও তার ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রাকিবকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় তার ছোট ভাইও আহত হন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরদিন রোববার সকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে বসতঘর ও রান্নাঘরসহ অন্তত আটটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাকিব হত্যার বিচার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। একই দিন ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পুলিশের উপস্থিতিতে নিহত রাকিবের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তদের বেশিরভাগই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, “হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।