‎মাদক মামলার আসামি ও তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন; ঘুষের বিনিময়ে পোস্টিং বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
‎মাদক মামলার আসামি ও তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন; ঘুষের বিনিময়ে পোস্টিং বাণিজ্যের অভিযোগ

‎‎মোহাম্মদ ইব্রাহিম,  চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) পূর্বাঞ্চলে বদলি ও পদায়নকে ঘিরে আবারও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সুবিধাজনক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় মাদক মামলার আসামি, বিভাগীয় তদন্তাধীন এবং অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত সদস্যদেরও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্বে বসানো হয়েছে।

‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের অস্ত্রাগার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘অস্ত্র শাখা’ এবং স্টেশনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা তদারকির গুরুত্বপূর্ণ ‘জেনারেল শাখা’র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এমন দুই হাবিলদারকে, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

মাদক মামলার আসামির হাতে অস্ত্র শাখার দায়িত্ব

‎সূত্র জানায়, সম্প্রতি অস্ত্র শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাবিলদার শোয়াইবকে। তিনি এর আগে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।

‎অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে নায়েক পদে আরএনবিতে যোগদানের দুই বছরের মাথায় ২০১২ সালে তিনি সীতাকুণ্ড মডেল থানার একটি মাদক মামলার আসামি হন। ওই ঘটনায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৮ সালে পুনর্বহাল হয়ে হাবিলদার পদ লাভ করেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

‎অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম নতুন ও পুরাতন রেলস্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে মাদক ব্যবসা ও টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

‎এছাড়া, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ষোলশহর স্টেশনে বদলি নিলেও সেখানে দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমে তার সহযোগী হিসেবে এক সিপাহী কাজ করতেন।

তদন্ত শেষ না হতেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

‎অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টেশনের জেনারেল শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাবিলদার জসিম উদ্দিন সরকারকে।

‎বিভিন্ন গণমাধ্যমে অতীতে তার বিরুদ্ধে রেলওয়ের ইঞ্জিনের লিড ক্যাবল চুরি এবং অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

‎তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে চট্টগ্রাম স্টেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ ও আর্থিক লেনদেনের কারণেই এই পদায়ন সম্ভব হয়েছে।

বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

‎একাধিক আরএনবি সদস্যের অভিযোগ, পূর্বাঞ্চলে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সুবিধাজনক পোস্টিং পেতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

‎তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

‎এসব অভিযোগের বিষয়ে আরএনবি পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে তার কার্যালয়ে যেতে বলেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সদস্যদের সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।

প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি

‎মাদক মামলার আসামি, বিভাগীয় তদন্তাধীন এবং অতীতে নানা অভিযোগে আলোচিত সদস্যদের কীভাবে রেলওয়ের অস্ত্রাগার ও নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর দায়িত্ব দেওয়া হলো—এ প্রশ্ন এখন সচেতন মহল, রেল কর্মকর্তা এবং যাত্রীদের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে।

‎স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।