রাতের আঁধারে ফলের বাগান কেটে দুই লাখ টাকার ক্ষতি, থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
রাতের আঁধারে ফলের বাগান কেটে দুই লাখ টাকার ক্ষতি, থানায় অভিযোগ

সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুরগ্রামে গভীর রাতে একটি ফলজ বাগানের প্রায় ১৮ থেকে ২০টি ফলদ গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।ফলধারণ করা আম, কাঁঠাল, লিচু, ডালিম, পেয়ারা ও কমলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগান মালিক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. শাবলু সরকার কালাই থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পুরগ্রামে তাঁর বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পূর্বে ১৪ শতাংশ ভিটা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ফলজ বাগান গড়ে তুলেছিলেন।সেখানে আম, কাঁঠাল,লিচু,ডালিম, পেয়ারা, কমলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ ছিল।অনেক গাছেই তখন ফল ধরেছিল এবং কিছুদিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১৩ জুলাই ভোর ৪টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর বাগানে প্রবেশ করে শত্রুতাবশত প্রায় ১৮ থেকে ২০টি ফলদ গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলে।এতে তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পরদিন সকালে বাগানে গিয়ে তিনি দেখেন, গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেখে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন।পরে স্থানীয়দের নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।

ভুক্তভোগী শাবলু সরকার বলেন, অনেক কষ্ট করে বছরের পর বছর ধরে এই বাগান গড়ে তুলেছি। গাছগুলো শুধু আমার সম্পদ ছিল না,পরিবারের ভবিষ্যতের একটি বড় ভরসাও ছিল।যেভাবে ফলধারণ করা গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে আমাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

পুরগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন বলেন,সকালে খবর পেয়ে বাগানে গিয়ে দেখি একের পর এক ফলদ গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে।এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।একজন মানুষের বহু বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. রাসেল মিয়া বলেন, যারা এ কাজ করেছে তারা শুধু গাছ কাটেনি, একজন কৃষকের স্বপ্ন কেটে ফেলেছে।প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করা এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

মো. মিতুল হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না গেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।