গভীর রাতে সরকারি দিঘির মাছ ধরে নিয়ে গেলেন দুই ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
গভীর রাতে সরকারি দিঘির মাছ ধরে নিয়ে গেলেন দুই ম্যাজিস্ট্রেট

ডেস্ক রিপোর্ট:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘি থেকে গভীর রাতে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের দুই (ম্যাজিস্ট্রেট) সহকারী কমিশনারকে নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে দালাল বাজার এলাকার খোয়াসাগর দিঘিতে জেলেদের দিয়ে জাল ফেলে মাছ তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমানের নির্দেশেই এই মাছ ধরা হয় এবং পরে সরকারি গাড়িতে করে তা নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে জেলেদের মাধ্যমে দিঘিতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই রাতে প্রায় দুই টন মাছ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রুই, কাতল, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ছিল। কয়েকটি চিতল মাছের ওজন ৭-৮ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে মাছগুলো কোথায় নেওয়া হয়েছে বা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিঘি থেকে ধরা অন্তত ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ৪২ কেজি এবং অন্যজন ৭০ কেজি মাছ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন জানান, দিঘি থেকে ধরা মাছ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে এবং কিছু মাছ বিক্রিও করা হয়েছে।

তবে মোট কত মাছ ধরা হয়েছে, কত টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বা কতটা দান করা হয়েছে, এসব বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো খোয়াসাগর দিঘি প্রায় ২৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। একসময় এটি পৌরসভার মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও প্রায় এক দশক আগে জেলা প্রশাসনের অধীনে নেওয়া হয়। এরপর থেকে দিঘির ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ রয়েছে।।

রাতের অন্ধকারে মাছ ধরা, সরকারি সম্পদের ব্যবহারে অস্পষ্টতা এবং যথাযথ তথ্য না দেওয়ায় পুরো ঘটনাটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

 ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ।


সূত্র-বাংলানিউজ