কুঁড়িয়ে পাওয়া টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন পাভেল
সূত্রঃ সংগৃহীত
খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমুলঘর গ্রামের যুবক পাভেল খন্দকার।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাঁতমণ্ডল গ্রামের বাসিন্দা নাঈম খান মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্যক্তিগত কাজে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর উপজেলার রতনপুর এলাকায় অসাবধানতাবশত তাঁর সঙ্গে থাকা সাইড ব্যাগটি পড়ে যায়। ব্যাগে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।
কিছু দূর যাওয়ার পর ব্যাগ হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারেন নাঈম। এরপর তিনি ফিরে এসে আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও ব্যাগটির সন্ধান পাননি। এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং টাকা ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দেন।
এদিকে, রাস্তায় পড়ে থাকা ব্যাগটি দেখতে পান পাভেল খন্দকার। ব্যাগ খুলে বিপুল পরিমাণ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে পেলেও তিনি তা নিজের কাছে রেখে না দিয়ে মালিকের সন্ধান শুরু করেন। বিভিন্নভাবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নাঈম খানের হাতে পুরো টাকা ও কাগজপত্রসহ ব্যাগটি তুলে দেন।
হারানো টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত নাঈম খান বলেন, ‘আমি টাকা ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। পাভেলের সততার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
পাভেল খন্দকার বলেন, ‘টাকাটা আমার নয়। তাই এটি নিজের কাছে রাখার প্রশ্নই আসে না। যার টাকা, তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই আমার দায়িত্ব।’
পাভেলের এমন মানবিক ও সৎ আচরণের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, অর্থের লোভ উপেক্ষা করে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া বর্তমান সময়ে সত্যিই বিরল ঘটনা। তাঁর এই কাজ সমাজে সততা, মানবিকতা ও পারস্পরিক আস্থার অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, পাভেলের মতো সৎ মানুষের সংখ্যা বাড়লে সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে।
এমকে/বিএম২৪









