শতভাগ জিপিএ-৫: কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
শতভাগ জিপিএ-৫: কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নরসিংদী প্রতিনিধি:


নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।


রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক অফিস আদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। এতে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য, ভর্তি-সংক্রান্ত নথি, টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকারীদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।


বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে বা জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের সব পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগ ওঠে, শতভাগ জিপিএ-৫ ধরে রাখতে টেস্ট পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ না দেওয়াসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।


শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে নবম শ্রেণিতে ৬০১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮২ জন। অর্থাৎ এই সময়ে ২১৯ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে।


তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, টেস্ট পরীক্ষায় ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ায় ৩৮২ জনকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।


এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে সানবীন স্কুল থেকে ৫০ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজনের মধ্যে তিনজন, নরসিংদী মডেল স্কুল থেকে চারজনের মধ্যে একজন এবং সান শাইন মডেল হাই স্কুল থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে জানা গেছে।


অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে কেউ কেউ এক বছর পিছিয়ে পড়েছে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।


একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের হঠাৎ টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে ফরম পূরণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের হার ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


শিক্ষাবিদদের মতে, ফলাফলকেন্দ্রিক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। টেস্ট পরীক্ষাকে ব্যবহার করে শিক্ষার্থী বাছাই বা ঝরে পড়ার সুযোগ তৈরি করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে পড়তে পারে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, “শোকজের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আমাদের ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে ৩৮২ জনকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোর্ডকে জবাব দেব।”



এমকে/বিএম২৪