হামলার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে গৃহবধূ, নিরাপত্তার দাবি
সংগৃহীত
মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা
বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক গৃহবধূকে দা ও লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার দেবর ও এক সহযোগীর বিরুদ্ধে। হামলায় আহত হয়ে ওই নারী প্রথমে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অসদাচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী আসমা বেগমের স্বামী শেখ সিরাজুল। তাদের বাড়ি ফকিরহাট উপজেলার ব্রাহ্মণবাকদিয়া গ্রামে।
আসমা বেগমের অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাড়ির একটি ঘরে ছিলেন। এ সময় তার ছোট দেবর কামরুল ইসলাম হাতে দা নিয়ে তাকে আঘাত করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার হাতে কোপ লাগে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, এ সময় ইব্রাহিম নামে আরেক ব্যক্তি লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
আসমা বেগম অভিযোগ করেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক ‘H/O physically assault 1 day back’ লিখেছেন। ভর্তি হওয়ার একদিন আগে আহত হওয়ার তথ্য ব্যবস্থাপত্রে কেন উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে অসদাচরণ করা হয় এবং তাকে ওই হাসপাতালে আর না আসতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আসমা বেগম। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী জানান, বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। হামলার ঘটনার পর থেকে তাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে থাকতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আসমা বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এমকে/বিএম২৪









