টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় থমকে আছে কক্সবাজারের পর্যটন
নুরুল আমিন হেলালী, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বেষ্টিত পর্যটন নগরী কক্সবাজারে টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় রীতিমত থমকে আছে কক্সবাজারের পর্যটন। বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটকশূন্য হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট। এতে হোটেল-রিসোর্ট মালিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে চরম সংকট। সংশ্লিষ্টদের দাবি, টানা বৈরী আবহাওয়ার এই অচলাবস্থায় পর্যটন খাতে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে ডলফিন মোড়, লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী বীচ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যারা এসেছেন, তারাও বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ সাগরে অবস্থান করতে না পেরে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন।
বন্থ রয়েছে সৈকত সংলগ্ন অধিকাংশ দোকানপাট। খোলা থাকা অল্প কয়েকটি দোকানেও তেমন ক্রেতার দেখা মিলছে না। ঝালমুড়ি, চটপটি, বিচ বাইক, চেয়ার-ছাতা ভাড়া, ঘোড়ায় চড়া, ফটোগ্রাফিসহ পর্যটকনির্ভর প্রায় সব ধরনের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, শুনেছি বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক পর্যটক তাদের বুকিং বাতিল করেছেন। প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৭০% রুম খালি পড়ে আছে। টানা বৃষ্টিতে পর্যটন খাতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
নারায়ণগন্জ থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মোশাররফ হোসেন বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েকদিন থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সারাদিন হোটেল কক্ষে বন্দি থাকতে হচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যেতে হবে।
সৈকতের বিচ বাইক ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার , কিটক্যাট ব্যবসায়ি মনিরসহ কয়েকজন জানান, কয়েকদিন ধরে কার্যত তেমন কোনো আয় নেই। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকজন ভাসমান মৌসুমি ব্যবসায়ি জানান, সারাদিন দোকান খোলা রেখেও একটি কাপ চা বা কফি বিক্রি করতে পারছেন না।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বৈরী আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। দ্রুত আবহাওয়ার উন্নতি না হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পুরো পর্যটন শিল্প বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে আশংকা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। গত কয়েকদিন সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় খালি পড়ে আছে কিটক্যাটসহ মৌসুমি বাহারি ব্যবসা প্রতিষ্টান। হোটেল-মোটেল রেস্তোরাঁয় থাকা-খাওয়ার ক্ষেত্রে ডিসকাউন্টের ছড়াছড়ি হলেও আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলছেনা। ফলে থমকে আছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প।









