শিশু ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখতে তাকে "রুবাইয়া" (ছদ্মনাম) নামে উল্লেখ করা হলো।  

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ঝালোডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা পরিমল ভক্ত (৪৬) কৌশলে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পর শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। শিশুটি বাড়িতে যেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে শিশুটিকে ঘরের ভেতরে দেখতে পান। পরে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে অন্য দরজা দিয়ে শিশুটিকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। পরে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্ত ভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেন। 

চিতলমারী থানায় দায়ের করা মামলা নং-০২, জিআর নং-৭২/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৯(১) ধারায় রুজু করা হয়েছে।

এদিকে মামলার একমাত্র আসামি পরিমল ভক্তকে ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে গত ৮ জুন রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চিতলমারী থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রোকেয়া খানম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।