ঝিনাইদহের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মেরুকরণ, বিএনপি-১: জামায়াত-৩

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ এএম
ঝিনাইদহের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মেরুকরণ, বিএনপি-১: জামায়াত-৩

মোঃ আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ঘিরে ঝিনাইদহের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ঝিনাইদহ জেলার মোট চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটিতে জয় লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে সর্বমোট ৫৮৭টি ভোট কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উৎসব মুখর নির্বাচন। এই নির্বাচনে জেলা জুড়ে নারী-পুরুষ মিলে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৫,৭৫,৫০০ জন (সর্বশেষ হালনাগাদ)। এবারের নির্বাচনে জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করেন। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রেই অতীতের চেয়ে সর্বোচ্চ হারে ভোট কাস্ট হয়।

এই নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে বিশাল ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক এটর্নি জেনারেল ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাড. মোঃ আসাদুজ্জামান। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১,৭১,৫৯৮টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এ এস এম মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫,৫৭৭ ভোট। ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. আসাদুজ্জামান ১,১৬,০২১ ভোট বেশি পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। 

ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসনে সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটেছে। এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, এখানে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১,১৭,৯৩১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাড. এম. এ. মজিদ পেয়েছেন ১১,০০৫২ ভোট। এই আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে জামায়াত।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ মতিয়ার রহমান। তিনি সর্বমোট ১,৭১,২৬৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন ১,৪৭,৩৫১ ভোট।

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ঝিনাইদহ-৪ (সদর আংশিক-কালিগঞ্জ) আসনে। এই আসনে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ আবু তালিব। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১,০৪,০৩১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন 

৭৫,৭৫০টি ভোট। এই আসনে গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) রাশেদ খানকে ঘিরে সবচেয়ে বড় চমক ছিল। ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন সর্বমোট ৫৫,৬৭০ ভোট।

এদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে বহু কাঙ্ক্ষিত এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুরো ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই বড় চমক ইতোমধ্যেই জনমনে সৃষ্টি করেছে নানা বিস্ময় ও জল্পনা-কল্পনা। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ বলছেন, "ঝিনাইদহ জেলার এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন সাধারণ মানুষের বিবেকের চূড়ান্ত অভিব্যক্তি। মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে ভুল করেনি। বিগত সরকারের আমলে জনগণ এই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।"

এদিকে, পুরো জেলা জুড়ে জামায়াতে ইসলামীর এই মহাজয় ও বিএনপির ভরাডুবি নিয়ে সমাজের সচেতন মহলের বলছেন,

"আগামী দিনে ঝিনাইদহ জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মেরুকরণ ঘটবে। এটি তারই নব সূচনা।"



বা/মে২৪/ম