মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ: সাময়িক বরখাস্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ পিএম
মোরেলগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ: সাময়িক বরখাস্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, সরকারি ওষুধ সংরক্ষণে গুরুতর ত্রুটি এবং চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।


স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি রোববার জারি হলেও সোমবার বিকেলে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে পৌঁছায়।


প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টার আকস্মিক পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবনে সরকারি চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণ এবং শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার মতো গুরুতর বিষয় ধরা পড়ে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, বিভাগীয় কার্যক্রম চলাকালে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।


বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


উল্লেখ্য, গত শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রায় দুই ঘণ্টা মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী এবং শৌচাগারে সংরক্ষিত ওষুধ দেখতে পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।


এর পরদিন খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বাগেরহাটের সিভিল সার্জন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। একই দিন বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচালিত ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে সিলগালা করা হয়।