জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনে বাড়তি ফি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনে বাড়তি ফি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

সংগৃহীত

জবি প্রতিনিধি


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে নিবন্ধন ও মূল সনদের জন্য বাড়তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা। স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের জন্য ৬ হাজার টাকা, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৫০০ টাকা, এমফিল ও পিএইচডির জন্য ১ হাজার টাকা এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের জন্য ৮০০ টাকা ফি দিতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য হবে।


অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল ৩ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএর ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ছিল ৪ হাজার টাকা ও মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। এমফিল ও পিএইচডির জন্য নিবন্ধন ফি ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা। সান্ধ্যকালীন সব প্রোগ্রামের নিবন্ধন ফি ছিল ৬ হাজার টাকা ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা।


ফি তুলনায় দেখা যায়, প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক ও বিবিএ, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ এবং এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা করে বেড়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মূল সনদ ফি ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন হলেও বাড়তি ফি অনেকের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি, সনদ ফি ও সম্ভাব্য সার্ভিস চার্জ একসঙ্গে পরিশোধ করা কঠিন হতে পারে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইয়ান হোসেন অপু বলেন, “সমাবর্তন হবে, এটা খুশির সংবাদ। কিন্তু সমাবর্তন ফি ৫-৬ হাজার টাকা হওয়াটা দুঃখজনক।”


আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের সময়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। এখন এত বেশি—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করা উচিত প্রশাসনের।”


শিক্ষার্থীরা সমাবর্তন ফি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও আয়োজনের খরচের বিস্তারিত হিসাব স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “সমাবর্তনের ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়নি। একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্য, চেয়ারম্যান ও ডিনরা সবাই মিলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছয় বছর আগে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, বর্তমানে সবকিছুর দাম ও আয়োজনের খরচ বেড়েছে। একটি সমাবর্তন আয়োজন করতে এখন অনেক বেশি ব্যয় হয়। সবকিছু বিবেচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতেই ২ হাজার টাকা করে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা বা আপত্তি থাকতেই পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় বিবেচনায় ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদেরও ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করা উচিত।”


এমকে/বিএম২৪