মোংলা-খুলনা মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০ যাত্রী

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪০ এএম
মোংলা-খুলনা মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০ যাত্রী

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের মোংলা-খুলনা মহাসড়কের দিগরাজ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে মোংলাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাসে থাকা বহু যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। গুরুতর আহত পাঁচ থেকে ছয়জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য আহতদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই মোংলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের ওই অংশে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

আহত যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাদের দাবি, সংঘর্ষের সময় বাস ও ট্রাক দুটিই দ্রুতগতিতে চলছিল। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কের এ অংশে দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া যান চলাচল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। দিগরাজের মতো জনবহুল এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান, বাস ও ট্রাক চালকদের ভূমিকা, যানবাহনের কাগজপত্র এবং চালকদের লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে দুর্ঘটনার পরও পরিবহন মালিকপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এতে আহতদের স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মোংলা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

দুর্ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, বরং চালক, মালিক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।