ফকিরহাটে চিংড়ির রেণু সংকট: মৌসুম শেষের পথে, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ফকিরহাটে চিংড়ির রেণু সংকট: মৌসুম শেষের পথে, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

প্রিন্স মন্ডল অলিফ,  বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় চলতি মৌসুমে চিংড়ির রেণুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘেরে রেণু ছাড়ার উপযুক্ত সময় প্রায় শেষ হলেও অধিকাংশ চাষি প্রয়োজনীয় রেণুর অল্প অংশ সংগ্রহ করতে পেরেছেন। ফলে প্রস্তুত থাকা হাজারো ঘেরে এখনো চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে একদিকে যেমন খামারিদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক মাস আগে থেকেই ঘের প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছেন চাষিরা। ঘের পরিষ্কার, পানি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য প্রস্তুতিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও রেণুর অভাবে সেই বিনিয়োগ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় ফলতিতা বটতলা ও আশপাশের বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রেণু কেনাবেচা হতো। কিন্তু এবার বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রেণুর দামও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফকিরহাটে ৮ হাজার ৪টি বাণিজ্যিক ঘের ও ২ হাজার ৬০৮টি পুকুর রয়েছে। এসব জলাশয়ে বছরে কোটি কোটি রেণুর প্রয়োজন হয়। তবে চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বাস্তব চাহিদা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উৎস থেকে রেণু সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, হ্যাচারির সংখ্যা কমে যাওয়া এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু চাষিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মাছের আড়ত, পরিবহন খাত, শ্রমিক এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চাষিদের দাবি, দ্রুত রেণুর সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী চিংড়ি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।